মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

ভালবাসার বেনোজলে

রাতের এই মধ্যযামে
রাতের শরীরকে বিদীর্ণ করে
বসে আছি একা
নীড়হারা পাখীর মত,
জানালার ওপারে চাঁদ ডুবে যায়
রেখে যায় বেদনার শিউলী যত
তারা মন্থিত হতে হতে ভেসে যায়
সঞ্চিত জলের স্রোতে
ছোট ছোট বোধের পানসি ডুবে যায়
বুকে নিয়ে কষ্ট থোকা থোকা,
তৃষিত এ মনের দেহে
রেখে যায় স্মৃতির শিশির
বোধের অণুতে আমি ভেঙ্গে ভেঙ্গে
জল হই, প্রণয়ের জল
তোমাকে ভিজিয়ে দিতে
হৃদয়ের উষর মরুতে ।।

জায়গা

আমার একটা পুরনো খাতা আছে;
এখনো ওটায় কিছু লেখা হয়নি
পৃষ্ঠাগুলোয় হলদেটে ছাপ পড়ছে
কলমের কালি তবু শুকিয়ে যায়নি।
নতুন করে লিখব পুরনো সুখগাঁথা
কিন্তু আজ সব অশান্তির জবরদখলে...
তোমার চিলেকোঠায় জায়গা দেবে?
শান্তিকাহন লিখব বসে তোমার টেবিলে।

আমার ঝোলায় অনেকগুলো রং আছে;
তুলি, প্যালেট আর নতুন ক্যানভাস।
দৃষ্টির সামনে সুন্দর যাকিছু খেলে যায়
মৌনসাধনায় তা ফুটিয়ে তোলা অভ্যাস।
এখন চারিদিকে কেবল স্বেচ্ছাচারিতা,
অন্ধকার সব আলোর নিয়েছে বর্গা!
আঁধার আঁকতেও আলোর প্রয়োজন-
তোমার ঝলমলে উঠোনে দেবে জায়গা?

চোখের জল

তোমার ওই স্থির চোখের
তীহ্ম অথচ সুগভীর চাহনি
যেন নীড় হারা নয়
নীড় বাঁধেনি এমন পাখি
নীড়ের সন্ধানে শশব্যস্ত।
আমার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে
কি যেন বলতে ইচ্ছে হয়;
খুব ছোট কথা অথচ কঠিন-
তাই বলা হয়ে ওঠেনা।


বিদীর্ণ হৃদয় শুধু ছাইয়ের মতো পুড়ে
কিন্তু তার মাঝে যে চাপা আগুন আছে
তা বুঝতে দেয় না।
ওই স্থির চোখে তাকিয়ে
আমার আর স্থির থাকা হয়ে ওঠেনা;
অজান্তে চোখের জল আসতে চায়-
তোমার অলক্ষ্যে চোখের জল আড়াল করি।

ভালবাসার আলো

আমি আমার মত আছি
তুমি খুজে নিয়ো যে.,
আজ আছি ছায়া বেশে
তোমারই পাশেতে...

রাতের আকাশ সাজাও তুমি
আমার আলো নিয়ে.,
দূর থেকে দেখি আমি, তোমায়
সব তারাদের ভিড়ে।

তারা আজ সঙ্গি তোমার
কালো আকাশের মাঝে.,
ভালবাসার আলো দিয়ে, তোমায়
সাজাই সন্ধাসাঝে...

কষ্ট

কেমন যেন কষ্ট
কোথাও কোন ক্ষত নেই
কোন জ্বর বা অসুখ নেই
কোন অভাব বা কোন বেদনা নেই
এমন কষ্ট, বুঝানো যাবেনা মুখে বলে
দেখানো যাবেনা কোথায় ব্যাথা
কিন্তু শরীরের হাড় পর্যন্ত কি যেন কষ্ট
অনেক বড় কষ্ট
ঠান্ডার কষ্ট
অনুভূতিতে যন্ত্রনা
কাঁপুনিতে থরথর সারা অঙ্গ
তাইতো কষ্ট
তাইতো শিতলতার বেদনা
বলা যায়না
দেখা যায়না
শুনা যায়না
শুধু অনুভবে এ যন্ত্রনা ।

একটি গোলাপ ফুল!


এই চারপাশ ঘেরা ভাঙা-চোরা-খোঁড়া,
উফ্‌ কী যন্ত্রণা!
এই চারপাশ ঘেরা শত পুরোনোতে, আর ছেঁড়া-ফাটা।
পথটার পাশ থেকে কান্নার আওয়াজ পাই,
কাঁদে এক শিশু।
ঘোড়াবাহী ভারী গাড়ি আগায় অনেক ধীরে --
ক্যাঁচক্যাঁচ করে।
আর কোন এক চাষাঃ
যে যায় এগিয়ে পথে, ভারী ভারী পায়ে।
যায় ছড়িয়ে এ হৃদে একটা শীতল পরশ,
হৃদয়ে আঘাত করে তোমার মধুর স্মৃতি --
গোলাপ হয়ে ফুঁটেছে বুকের গভীর কোণে।
কদাকার সব ভুল,
দারুন করে বলাটা আরেক বিশাল ভুল!
খিদের জ্বালায় মরি আবার গড়ার আশে।
দূরের এক পাহাড়ে, নতুন সবুজ ঘাসে,
এই বসুধার সাথে, ওই আকাশের মাঝে,
কিংবা জলের ভেতর
গড়েছি স্বর্ণ-আঁকড়!
স্বপ্নের মাঝে তোমার ছবি ফোঁটায় হৃদয় কোণে
একটি গোলাপ ফুল!


বেদনা

আধঘুমে পৃথিবীর সব প্রানী তন্ময়
শিশির কুয়াশায় ,কিছু ভুল সময়
আজো তার পাশে , ঘুমন্ত ভুল সময় !
লোভহীন শ্বাপদের মত যে নিশাচর
টুকরো টুকরো করে শুভ্র জোছনার ছায়া ,
কেউ কি দেখে তার বেদনা ?
নাবিকের কম্পাসের মত ধ্রুব বেদনা ...।

কতদিন ঢেউ এসে ছুঁয়ে গেছে তার,
না ভেজা কাপড়ের যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ,
কি করে বোঝাই তারে ?
সবাই কি পায় ছুঁতে শীতল অনুভূতি !
এই পৃথিবীতে ?

ভালোলাগা, ভালোবাসা

কখনও কখনও জীবনটাকে ভীষন বিষণ্ণ মনে হয়,
হারিয়ে যায় সব ভালোবাসা, ভালোলাগা।
নীল আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা।
অসহনীয় এক একাতীত্ব।

কখনও কখনও জীবন ভারী রহস্যময়,
ভাললাগার তরুলতায় ঘেরা, এক অজানা পুরী।
আঙুরলতার আনাগোনা,
ভালোবাসার ছোঁয়া।

সেই ভালোলাগা, ভালোবাসা।
মনের কুঠিরে তার আনাগোনা,
আবারও হারিয়ে যাওয়া,
ভালোলাগা, ভালোবাসা।

তুমিও ভালো থেকো

প্রতিদিন তোমাকে একটু একটু করে চিনছি আমি .......
একটু একটু করে ভালবাসছি....
কোনো স্বপ্ন রচনা করার আশা আমার নেই.....
তোমার আশা,যাওয়ার কোনো সময় নাই.....তোমার ইচ্ছেমতন ই তুমি আস আর যাও ......
আমাকে দোলা দিয়ে দিয়ে যাও.......
দোল খেতে আমার কিন্তু খারাপ লাগেনা....
আমি ছুটে যাই অনেক দূরে ....দূর দূরান্তে....তোমার হাত ধরে......
নিঃশব্দ কথামালা দিয়ে তৈরী আমাদের ভালবাসার ঘর.....
যে ঘর নিজেদের হাতে আমরা সাজাই..............
যখন আমাদের বরাদ্দকৃত সময় শেষ হয়ে যায়......
আমরা ফিরে যাই আমাদের অভিনয়ের জগতে.....
রয়ে যায় রেশটুকু.......অফুরন্ত ভালোলাগার......
আমি ভালই আছি তোমার সাথে........
তুমিও ভালো থেকো.......